Header Ads

Header ADS

রচনা: ৫ম শ্রেণির জন্য

 রচনা

আমাদের দেশ

[সংকেত: ভূমিকা; অবস্থান ও আয়তন: স্বাধীনতা লাভঃ জনসংখ্যা; জাতি ও ভাষা; ভূ-প্রকৃতি; মানুষের পেশা; ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসব; অর্থনৈতিক অবস্থা; প্রাকৃতিক সম্পদ; উপসংহার]

ভূমিকা: প্রকৃতির আশীর্বাদপুষ্ট আমাদের এই বাংলাদেশ যেন শ্যামলিমা ছায়াছবি। শস্য শ্যামলে ভরা মাঠে-ঘাটে সবুজের সমারোহ যেন দেশকে করে তুলেছে 'চিরসবুজ'

অবস্থান ও আয়তন: বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের পূর্বে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিয়ানমার, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের আয়তন ৫৬,১৭৭বর্গমাইল বা ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার

স্বাধীনতা লাভ: ১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে পাকিস্তানের কাছ থেকে এ দেশ স্বাধীনতা লাভ করে

জনসংখ্যা: বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অন্যতম জনবহুল দেশ। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬ জন। [জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২]

জাতি ও ভাষা: বাংলাদেশে অনেক জাতি বাস করে এবং এদের রয়েছে প্রত্যেকেরই নিজস্ব ভাষা। বাংলাদেশে বসবাসরত জাতিগুলো হলো- মুসলমান, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, মগ, চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, ত্রিপুরা, মুড়ং, মণিপুরি, রাখাইন ইত্যাদি। রাষ্ট্রভাষা বাংলা ছাড়াও এখানে রয়েছে ইংরেজি, আরবি, ফারসিসহ বিভিন্ন ভাষার। তবে এখানে মুসলমান সবচেয়ে বেশি এবং বাংলা ভাষা অধিক মানুষের মুখের ভাষা

ভূপ্রকৃতি: বাংলাদেশের অধিকাংশ এলাকাই পলিবাহিত সমভূমি। মধুপুর ও ভাওয়াল গড়, সিলেটের কিছু অংশ, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার কিছু অংশে পাহাড় রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমে সুন্দরবন রয়েছে। এছাড়া রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী

মানুষের পেশা: বাংলাদেশের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। বাংলাদেশের শতকরা ৮৫ ভাগ লোক কৃষক। এছাড়া রয়েছে জেলে, মাঝি, তাঁতি, কামার, কুমোর, ছুতার ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ

ধর্মীয় ও জাতীয় উৎসব: মুসলমানদের দুটো ঈদ রয়েছে ঈদুল ফিতর ও ঈদ-উল আজহা। হিন্দুদের 'বারো মাসে তেরো পার্বণ' চলতেই থাকে। বৌদ্ধদের আছে সারা বছরে কয়েকটি বুদ্ধ পূর্ণিমা ও প্রবারণা পূর্ণিমা। খ্রিষ্টানদের আছে 'ইস্টার সানডে', 'বড় দিন' ইত্যাদি উৎসব জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোতে পুরো জাতিই অংশ নেয়। নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে সেগুলো পালিত হয়। এসব দিনে সরকারি ছুটি থাকে। দিনগুলো হলো: 'একুশে ফেব্রুয়ারি বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস', 'স্বাধীনতা দিবস', 'পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ' 'বিজয় দিবস'বাংলাদেশের মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা এসব জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদা ও আনন্দমুখর পরিবেশে উদ্যাপন করে

অর্থনৈতিক অবস্থা: বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রধানত কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষকেরা আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি শুরু করায় কৃষির উৎপাদন অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাট, তৈরি পোশাক ও চায়ের ওপরও কিছু পরিমাণে বাংলাদেশের অর্থনীতি নির্ভর করে

প্রাকৃতিক সম্পদ: বাংলাদেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। এছাড়াও কয়লা, চুনাপাথরসহ অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে

উপসংহার: মা ও মাতৃভূমি আমাদের সবার প্রিয়। আমরা আমাদের দেশকে ভালোবাসি। যেকোনো অবস্থায় এ দেশের মান রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য

তোমার প্রিয় খেলা

ভূমিকা: ক্রিকেট বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। ক্রিকেটকে বলা হয় খেলার রাজা। ক্রমেই আমাদের দেশ ক্রিকেট খেলায় নৈপুণ্য অর্জন করে চলেছে

ক্রিকেট খেলার নিয়ম: ক্রিকেট দুদলে খেলতে হয়। প্রত্যেক দলে এগারো জন করে খেলোয়াড় থাকে। ক্রিকেট খেলার জন্য কাঠের ব্যাট ও একটি কাঠের বল প্রয়োজন হয়। মাঠের মধ্যস্থলে পরস্পরের সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে বাইশ গজ দূরে তিনটি করে কাঠের দণ্ড পোঁতা থাকে। এই পোঁতা কাঠের দণ্ডকে ক্রিকেটের পরিভাষায় 'উইকেট' বলা হয়। এই উইকেটের মাথায় নির্দিষ্ট মানের দুটি করে কাঠখণ্ড থাকে, এগুলোকে বলা হয় 'বেইল' ক্রিকেট খেলা আরম্ভ হওয়ার পূর্বে টস দেওয়া হয়। যে পক্ষ টসে জয়লাভ করে সেই পক্ষের ইচ্ছা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয় কোন দল আগে ব্যাট করবে। খেলাকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়

১. এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ২. পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ। তবে তিন দিনের টেস্ট ম্যাচও হয়ে থাকে। সম্প্রতি ২০ ওভারের সংক্ষিপ্ত আকারের T20 ম্যাচও চালু হয়েছে। এক দিনের ম্যাচে পঞ্চাশ ওভার করে উভয় দল খেলে। আর টেস্ট ম্যাচে পাঁচ দিনের প্রতিদিন নব্বই ওভার করে খেলতে হয় উভয় দলকে পর্যায়ক্রমে ব্যাট করতে হয়। প্রত্যেক বারের খেলাকে একটি ইনিংস বলা হয়। ক্রিকেট খেলা যিনি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করেন তাকে আম্পায়ার বলে একদল ব্যাট করে আর অন্যদল মাঠের নির্দিষ্ট স্থান ঘিরে দাঁড়ায় যাতে বল আয়ত্তের বাইরে যেতে না পারে। দুজন ব্যাটধারী দুদিকের উইকেটের কাছে পরস্পর মুখোমুখি দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে একজন বল পেটায় আর অন্যজন প্রয়োজনবোধে দৌড়িয়ে দলের জন্য রান সংগ্রহ করতে সাহায্য করে, পরে পালাক্রমে নিজেরা ব্যাট করে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা ব্যাটসম্যানদের আউট করার চেষ্টা করে। তাদের একজন একদিক থেকে বল নিক্ষেপ করে ব্যাটধারীর উইকেট স্পর্শ বা আঘাত করতে চেষ্টা করে। বল নিক্ষেপকারীকে . 'বোলার' বলে। ব্যাটধারীর উইকেটের পেছনে যে দাঁড়িয়ে থাকে তাকে 'উইকেটরক্ষক' বলে। তার লক্ষ্য থাকে উইকেট ও বলের দিকে, বাকি খেলোয়াড় চতুর্দিকে নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে বল আটকানোর চেষ্টা করে। এজন্য তাদেরকে ফিল্ডার বলে। এক দলের দশজন খেলোয়াড় আউট হলে তাদের ইনিংস শেষ হয়। তখন অন্য দল ব্যাট করার সুযোগ পায়

জয়-পরাজয়: খেলার জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় রানের সংখ্যা, নির্দিষ্ট সময়ে কতজন ব্যাটসম্যান নট আউট থাকে তার হিসাব দ্বারা। সুতরাং এ খেলায় সব সময় লক্ষ রাখতে হয় সময়ের দিকে, রান বাড়ানোর দিকে এবং উইকেট রক্ষার দিকে

উপকারিতা: অন্যান্য খেলাধুলার মতো ক্রিকেট খেলাও আনন্দদায়ক ও স্বাস্থ্যপ্রদ। শরীরচর্চার দিক ছাড়া এর অন্য একটা দিকও আছে- চরিত্র গঠন, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, সতর্কতা, সহযোগিতা প্রভৃতি গুণ এ খেলা থেকেই লাভ করা যায়

অপকারিতা: ক্রিকেট খেলায় অনেক উপকারীতা থাকলেও একটু অসুবিধাও রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, অসাবধানতাবশত বল শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় লেগে যায়। যেমন- চোখ। যার ফলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। তাই ক্রিকেট মাঠে সবসময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত

উপসংহার: বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড়রা এ খেলায় ক্রমশ পারদর্শী হয়ে উঠছেন। আইসিসি ট্রফি জয় করে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও টেস্ট খেলার যোগ্যতা লাভকরেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশকে এক দিনের ক্রিকেটে পরাজিত করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল

কম্পিউটার

[সংকেত: ভূমিকা; কম্পিউটার আবিষ্কার; 'কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ; কম্পিউটারের ব্যবহার; কম্পিউটারের অবদান; অপকারিতা; উপসংহার]

ভূমিকা: কম্পিউটার মানুষের একটি বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য যন্ত্র। এর চিন্তাধারা অনেকটা মানুষের মতো বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। অদূর ভবিষ্যতে কম্পিউটার হয়তো মানুষের পাশাপাশি বসবাস করবে

কম্পিউটার আবিষ্কার: আমেরিকার বিজ্ঞানী জন ডন নিউম্যান ১৯৫২ সালে সর্বপ্রথম কম্পিউটার আবিষ্কারের পরিকল্পনা করেন। তাঁর সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইলেকট্রনিক্স ডিলে ভেরিয়েবল অটোমেটিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কৃত হয়। ১৯৬৪ সালে ইংল্যান্ডে ইলেকট্রনিক্স স্টোরেজ অটোমেটিক ক্যালকুলেটর (প্রাথমিক কম্পিউটার) আবিষ্কার করেন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মবিইউইন্স। তবে কম্পিউটারের জনক বলা হয় চার্লস ব্যাবেজকে

কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশ: কম্পিউটারের অংশগুলো দুই ভাগে বিভক্ত; (ক) সফ্টওয়‍্যার, (খ) হার্ডওয়‍্যার। সফ্টওয়্যার হলো কম্পিউটারের কাজের নির্দেশনাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে সাজানোর কৌশল। এটিকে প্রোগ্রামও বলা হয়। আর হার্ডওয়্যার হলো যন্ত্রপাতি। এগুলো হলো- কি-বোর্ড, মাউস, ডিস্ক, স্ক্যানার, কার্ড রিডার, হার্ডডিস্ক, মাদার বোর্ড, মনিটর, প্রিন্টার, স্পিকার ইত্যাদি

কম্পিউটারের ব্যবহার: কম্পিউটার জনসংখ্যা, আয়কর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, তড়িৎ, গ্যাস, টেলিফোন বিল, দোকানের হিসাব ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য সঞ্চয় করে রাখতে পারে। সরবরাহকৃত তথ্যাদি বাছাই ও মিলকরণের ক্ষমতা কম্পিউটারের রয়েছে আধুনিক বিশ্বের মহাকাশযান, সর্বাধুনিক কলকারখানা ও পারমাণবিক চুল্লিসমূহ কম্পিউটারের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এছাড়াও উড়োজাহাজের নকশা, ঘরের নকশা, ডুবোজাহাজসহ বড় বড় কাজের নকশা কম্পিউটারের সাহায্যেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে

কম্পিউটারের অবদান: কম্পিউটার মানুষের হয়ে বিভিন্ন কাজের তদারকি করতে সক্ষম। কম্পিউটার টেলিফোন শিল্পের মনিটরিং ব্যবস্থায় ব্যাপক সাহায্য করছে। হোটেল, পরিবহন, অফিস, আদালত, মুদ্রণ কাজ ইত্যাদিতেও কম্পিউটার দ্বারা মানুষ উপকৃত হচ্ছে

অপকারিতা: কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে বেকারত্ব বেড়ে গেছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। বাংলাদেশ বা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশে এ সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করবে

উপসংহার: কম্পিউটার আধুনিক বিশ্বের বিস্ময়। সারা বিশ্বেই কেবল নয়, আমাদের দেশেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখন কম্পিউটার ব্যবহৃত হচ্ছে। এই বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে হলে আমাদের আইটি সেক্টরে আরও অগ্রসর হতে হবে

জাতীয় ফুল: শাপলা

[সংকেত: ভূমিকা; বিবরণ; প্রকারভেদ; উপযোগিতা; শাপলার সৌন্দর্য; উপসংহার]

ভূমিকা: শাপলা আমাদের জাতীয় ফুল। গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে, ডোবায়, বিলে-ঝিলে, খালে-বিলে এ ফুলের বিচিত্র সমারোহ দেখা যায়। শাপলার শুভ্র হাসিতে আমাদের মন জুড়ায়। বর্ষাকালে সাদা শাপলায় ভরা পুকুর-ডোবা দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায়

বিবরণ: শাপলার মূল থাকে মাটির নিচে। বর্ষার স্পর্শ পেয়ে এর ডাঁটা বের হয়। মূলের ভেতর থেকে সরু নলের মতো একটি দণ্ড উঠে এসে জলের উপরে কালচে-সবুজ বিশাল পাতা ছড়িয়ে দেয়। এভাবে এক একটি মূল থেকে বেশ কয়েকটি শাখা উঠে এসে পাতায় পাতায় জলাশয় ভরিয়ে তোলে। তারপর ফুলের কুঁড়ি নিয়ে শাপলার ডাঁটা মাথা তোলে জলের ওপরে; এরপর আলো-বাতাসের স্পর্শে ফুটে ওঠে ফুল

প্রকারভেদ: শাপলা তিন প্রকারের; যথা- ১. তারকা শাপলা, ২. রাতাইল শাপলা ও ৩. হুন্দী শাপলা। তারকা শাপলার রং হয় নীল এবং পাপড়িগুলো তারকার মতোই। রাতাইল শাপলা টকটকে লাল এবং হুন্দী শাপলা হয় ধবধবে সাদা। রাতাইল এবং হুন্দী শাপলার পাপড়িগুলো বেশ বড় হয়

উপযোগিতা: শাপলা-ডাঁটা তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শালুক সিদ্ধ করে খাওয়া হয়। ঢ্যাপের খই ও মোয়া খাওয়া যে কী আনন্দের তা একমাত্র গ্রামবাংলার ছেলেমেয়েরাই জানে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা ডাঁটাসহ শাপলা ফুল দিয়ে মালা তৈরি করে গলায় ও মাথায় পরে

শাপলার সৌন্দর্য: শাপলা যদিও গন্ধহীন, তবু এর সৌন্দর্যের তুলনা নেই। শুভ্র পবিত্র এ ফুল যেন আমাদের সুন্দর স্বপ্নগুলোকেই মেলে ধরে। তাই গ্রামবাংলার বুকের দুলালী শাপলাই আমাদের জাতীয় ফুল

উপসংহার: জাতীয় জীবনে গৌরবের আসনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আজ শাপলা সারা দেশে সমাদৃত। তাই তো বাংলাদেশের মুদ্রার। ওপর শাপলার ছবি। শাপলা বাঙালির জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক

তোমার প্রিয় শিক্ষক

[সংকেত: ভূমিকা; গুণাবলি; ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা সমাধানে তাঁর ভূমিকা; পাঠ্যক্রমবহির্ভূত শিক্ষাদান; বিশেষ বৈশিষ্ট্য; উপসংহার]

ভূমিকা: আমি পাঁজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একজন ছাত্র। এ বিদ্যালয়ের প্রায় সব শিক্ষকই উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী ও আন্তরিক। তারপরও তাঁদের মধ্যে একজনকে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। তাঁর নাম মাকশুদুল হক, ডাকনাম মানিক। তাই আমরা তাঁকে ডাকি মানিক স্যার। তিনিই আমার প্রিয় শিক্ষক

গুণাবলি: মানিক স্যারের মানবীয় গুণাবলি সত্যিই আকর্ষণীয়। তিনি ভদ্র, নম্র, সামাজিক, সরল ও সর্বোপরি সচ্চরিত্রবান। শিক্ষক হিসেবে তিনি অসাধারণ ও অতুলনীয়। পাঠ্যবিষয়কে তিনি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন করেন
ছাত্রছাত্রীদের সমস্যা সমাধানে তাঁর ভূমিকা: তিনি ছাত্রছাত্রীদের কাছে একজন প্রিয় বন্ধুর মতো। তিনি আমাদের যেকোনো সমস্যায় আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসেন

পাঠ্যক্রমবহির্ভূত শিক্ষাদান: মানিক স্যার পুথিগত পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, নৈতিকতা, সচ্চরিত্র ও সুন্দর জীবন গঠনের প্রাথমিক করণীয় সম্পর্কে আমাদেরকে উপদেশ ও পরামর্শ দেন

বিশেষ বৈশিষ্ট্য: তিনি তাঁর ছাত্রছাত্রী তথা আমাদের ওপর কোনোকিছু জোর করে চাপিয়ে দেন না। তাঁর হৃদয়গ্রাহী ও মনোজ্ঞ শিক্ষাদান কৌশল যেমনই মজার তেমনই ফলপ্রসূ। এ কারণেই ছাত্রছাত্রীরা তাঁর খুবই ভক্ত

উপসংহার: একজন আদর্শ শিক্ষকের যাবতীয় গুণাবলির এক অনন্য সমাবেশ ঘটেছে আমার প্রিয় শিক্ষক মানিক স্যারের মধ্যে। আমি তাঁর দীর্ঘ জীবন কামনা করি



বর্ষাকাল

[সংকেত: ভূমিকা; বর্ষার আগমন; বর্ষার সৌন্দর্য; বর্ষার অবদান; বর্ষার বিনাশী রূপ; উপসংহার]

ভূমিকা: ষড়ঋতু পালাবদল করে সারাটি বছর ধরে নিয়ে আসে সৌন্দর্যের বিচিত্র পসরা। এর মধ্যে বর্ষা হল দ্বিতীয় ঋতু। বর্ষা ঋতুটি আমাদের নিসর্গ ও চেতনালোকে সবচেয়ে বেশি ছাপ ফেলে যায়

বর্ষার আগমন: আষাঢ়-শ্রাবণ দুই মাস বর্ষাকাল। গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ, ম্লান করে দিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে বর্ষার আগমন ঘটে। গ্রীষ্মের একচ্ছত্র দাপটের তখন অবসান ঘটে। তৃষ্ণার্ত প্রকৃতির বুকে নেমে আসে অবিরল বর্ষণ

বর্ষার সৌন্দর্য: বর্ষা ঋতুর যে সৌন্দর্য তার তুলনা আর অন্য কোনো ঋতুতেই মেলে না। এ সময় প্রকৃতি সেজে ওঠে নতুন সাজে। অবিরাম বৃষ্টিধারায় প্রকৃতি সবুজের সমারোহে ভরে ওঠে। এ সময় গাছে গাছে কদম, কেয়া, বেলি, গন্ধরাজ নানান ফুল ফোটে। শাপলায় ভরে যায় পুকুর ডোবা-বিল। এ সময় পেয়ারা, বাতাবি লেবু, আমড়া ইত্যাদি ফল পাওয়া যায়

বর্ষার অবদান: আষাঢ়ের ঘন কালো, মেঘ কৃষকের মনে আনে পলিমাটির স্বপ্ন, ব্যাকুল বর্ষণের মধ্যে সে পায় আসন্ন শস্যের আনন্দবার্তা। এ সময়ই কৃষক সোনালি আঁশ পাট ঘরে তোলে আর আউশ ধানের সম্ভারে তার আঙিনা পূর্ণ হয়ে ওঠে। বর্ষায় নদীগুলো আমাদের জন্য নিয়ে আসে রুপালি মাছের উপহার

বর্ষার বিনাশী রূপ: অনেক সময় অতি বর্ষণে কৃষকের স্বপ্ন লালিত ফসল বিনষ্ট হয়ে যায়। কখনো প্রবল বন্যায় প্লাবিত হয় শহর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ; ভেসে যায় ঘরবাড়ি

উপসংহার: বর্ষার মধ্যে যত অমঙ্গলই থাক, তার কল্যাণী রূপই আমাদের চোখে বেশি করে ধরা পড়ে। বস্তুত বর্ষাই আমাদের বাংলাদেশকে সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা করে তুলেছে

শখের মৃৎশিল্প

[সংকেত: ভূমিকা; মৃৎসামগ্রী; মৃৎশিল্প তৈরির উপকরণ; বাংলাদেশের ঐতিহ্যময় মৃৎশিল্প; মৃৎশিল্পী; উপসংহার]

ভূমিকা: কাদামাটি দিয়ে শিল্পী-কারিগর তার শৈল্পিক হাতের ছোঁয়ায় যে শিল্পবস্তু সৃষ্টি করে তা-ই মৃৎশিল্প। যুগ যুগ ধরে কুমোর সম্প্রদায় আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহার্য এসব 'দ্রব্যসামগ্রী তৈরি করে আসছে

মৃৎসামগ্রী: মাটির কলস, হাঁড়ি, সরা, বাসন-কোসন, পেয়ালা, সুরাই, মটকা, জালা, পিঠে তৈরির ছাঁচ ইত্যাদি মৃৎসামগ্রী যুগ যুগ ধরে আমাদের গৃহকাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাছাড়া মৃৎসামগ্রী আমাদের গৃহের সৌন্দর্য বর্ধনেও ব্যবহৃত হচ্ছে। মাটির ঘোড়া, হাতি, ষাঁড়, বউ-জামাই, কৃষক, নথরা ছোট্ট মেয়ে, ইলিশ, শখের হাঁড়ি ইত্যাদি দেখলেই মন কাড়ে

মৃৎশিল্প তৈরির উপকরণ: মৃৎশিল্প তৈরির জন্য প্রথম দরকার পরিষ্কার এঁটেল মাটি। এরপর দরকার অনেক শ্রম, হাতের নৈপুণ্য ও কারিগরি জ্ঞান। আবার এ শিল্পের জন্য কিছু ছোটখাটো যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামেরও প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্য সবচেয়ে অত্যাবশ্যক উপকরণ হলো কাঠের চাকা। এই চাকায় নরম মাটির তাল লাগিয়ে নানা আকারের মৃৎসামগ্রী কুমোররা তৈরি করে থাকেন

বাংলাদেশের ঐতিহ্যময় মৃৎশিল্প: হাঁড়ি-কলসি ছাড়াও আমাদের দেশে একসময় গড়ে উঠেছিল সুন্দর পোড়ামাটির ফলকের কাজ বা টেরাকোটা। এ টেরাকোটা বাংলার প্রাচীন মৃৎশিল্প। শালবন বিহার, মহাস্থানগড়, সোমপুর বিহার, বাগেরহাটের ষাটগম্বুজ ও. দিনাজপুরের কান্তজির মন্দিরে এই টেরাকোটার কাজ রয়েছে

মৃৎশিল্পী: এ দেশের কুমোর সম্প্রদায় বংশপরম্পরায় এ শিল্প তৈরি করে আসছে। তারা তাদের জীবন ও জীবিকার অবলম্বন হিসেবে যুগ যুগ ধরে মৃৎসামগ্রী তৈরি করছেন। তাদের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাও এ কাজ করে থাকে

উপসংহার: আবহমানকাল ধরে প্রচলিত মৃৎশিল্প আমাদের ঐতিহ্য ও গর্ব। তাই এ শিল্পকে সমৃদ্ধ তথা আধুনিকায়নের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.