রচনা।। একুশে ফেব্রুয়ারি।। ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির জন্য
একুশে ফেব্রুয়ারি
(সংকেত: ভূমিকা; মাতৃভাষার গুরুত্ব; ভাষা আন্দোলনের মূল ঘটনা; শহিদ মিনার; আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস; উপসংহার।)
ভূমিকা : একুশে ফেব্রুয়ারি
আমাদের জাতীয় জীবনের একটি মহান দিন। এ দিনে আমাদের মাতৃভাষা বাংলা রাষ্ট্রীয়
মর্যাদা লাভ করে। এটি বাঙালি জাতির জীবনে একটি তাৎপর্যময় ও গৌরবের দিন।
মাতৃভাষার গুরুত্ব: আমাদের মাতৃভাষা
বাংলা। প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে এ ভাষার ব্যবহার চলে আসছে। এ ভাষায় আমরা সহজেই
আমাদের মনের ভাব প্রকাশ করি। এ ভাষার কাব্যসাহিত্য শত বছর আগেই পেয়েছে নোবেল
পুরস্কার। কাজেই বাংলা আমাদের গর্বের ভাষা।
ভাষা আন্দোলনের মূল ঘটনা: পাকিস্তানি শাসকবর্গ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চাইলে বাঙালিরা এর বিরুদ্ধে
প্রতিবাদ করে, মিছিল করেছে, সভা-সমাবেশ করেছে। আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে ১৯৫২ সালে গঠন
করেছে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ'। পাকিস্তানিরা ভয়
পেয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে জারি করেছে ১৪৪ ধারা। কিন্তু ২১শে ফেব্রুয়ারি
ছাত্র-জনতা ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমেছে। পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন
সালাম,
বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে। আহতও হয়েছেন অনেক। অবশেষে সারা দেশের মানুষের তীব্র আন্দোলনের মুখে পাকিস্তানিরা বাংলা
ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে বাধ্য হয়েছে।
শহিদ মিনার: শহিদদের স্মৃতি 'স্মরণে ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি মেডিকেল কলেজের
শিক্ষার্থীরা রাতারাতি শহিদ মিনার নির্মাণ করেন। ২৪শে ফেব্রুয়ারি সকালে
অনানুষ্ঠানিকভাবে শহিদ শফিউর রহমানের পিতা এবং ২৬শে ফেব্রুয়ারি সকালে
আনুষ্ঠানিকভাবে সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দিন শহিদ মিনার উদ্বোধন করেন। ২৬শে
তারিখ বিকেলে পুলিশ শহিদ মিনারটি। ভেঙে ফেলে। পরে রাতে আবার শহিদ মিনার নির্মাণ
করা হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: কানাডা প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন 'মাদার
ল্যাংগুয়েজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড'-এর আবদুস সালাম ও
রফিকুল ইসলাম ২১শে ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ
করেন। তাঁরা বাংলাদেশ সরকারকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ জানান।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশমতো খুব দ্রুত এ সংক্রান্ত প্রস্তাব
ইউনেস্কো সম্মেলনে পাঠানো হয়। পরে ইউনেস্কোর
৩১তম সাধারণ অধিবেশনে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি দান করা হয়।
উপসংহার: বাংলাদেশ ছাড়া
পৃথিবীর আর কোথাও মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনদানের নজির নেই। বাংলাভাষীরা সেই
অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এ সূত্রেই একুশে ফেব্রুয়ারি এখন 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস'। বাংলা ভাষার ব্যাপক চর্চা ও উৎকর্ষের মাধ্যমে এ
সম্মান সমুন্নত রাখতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই